মায়াপুরের গৌর-নিতাই মন্দিরে পালিত হল জন্মাষ্টমী ও নন্দ উৎসব

মায়াপুরের গৌর নিতাই মন্দিরে পালিত হল জন্মাষ্টমী ও নন্দ উৎসব।
জন্মাষ্টমীর পরের দিনই পালিত হয় নন্দ উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পর গোকুলবাসীর আনন্দ-উচ্ছ্বাসকে স্মরণ করেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেই ঐতিহ্য মেনেই নদিয়ার মায়াপুরে নবনির্মিত শ্রীশ্রী গৌর-নিতাই মন্দিরে ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হল জন্মাষ্টমী ও নন্দ উৎসব।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের উদ্যোগে নির্মিত এই মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসংখ্য শিষ্য, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন। শুক্রবার রাতে জন্মাষ্টমীর পুজো এবং শনিবার সকাল থেকেই নন্দ উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আবহ। ভক্তদের হরিনাম সংকীর্তন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর।
নন্দ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত হয় গুরুপূজা, বিশেষ আরতি, শাস্ত্রপাঠ এবং হরিনাম সংকীর্তন। ভক্তরা গীতাপাঠ ও নামসংকীর্তনে অংশ নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের লীলাস্মরণ করেন। পাশাপাশি ভক্ত ও আগত দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদ বিতরণ ও ভোজনেরও আয়োজন করা হয়।
পুরাণ ও বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুসারে, কংসের অত্যাচার থেকে শ্রীকৃষ্ণকে রক্ষা করতে তাঁর জন্মের পর পিতা বসুদেব তাঁকে গোকুলে নন্দ ও যশোদার কাছে নিয়ে যান। নন্দের গৃহে কৃষ্ণকে পেয়ে গোকুলবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরদিন পালক পিতা নন্দ সকলকে নিয়ে যে আনন্দোৎসবের আয়োজন করেছিলেন, সেই স্মৃতিতেই জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দ উৎসব পালনের প্রচলন হয়েছে।
নন্দ উৎসবকে ঘিরে বৈষ্ণব সমাজে বিশেষ ধর্মীয় রীতি পালন করা হয়। হরিনাম সংকীর্তন, গীতাপাঠ, বিশেষ পূজা-অর্চনা এবং ভক্তদের প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। মায়াপুরের গৌর-নিতাই মন্দিরেও এদিন সেই ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানেরই প্রতিফলন দেখা যায়।
দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। ভক্তি, সংকীর্তন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও নন্দ উৎসবের তাৎপর্য স্মরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *