‘হেল্পিং হ্যান্ড’-এর উদ্যোগে কলকাতায় সফলভাবে সম্পন্ন হল ‘নুমায়িশ ২০২৬’

কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর : ‌২০১৪ সালে একঝাঁক স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীর মোমবাতি মিছিল থেকে জন্ম নেওয়া সামাজিক সংস্থা ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ সফলভাবে আয়োজন করল তাদের ফ্ল্যাগশিপ চ্যারিটেবল প্রর্দশনী ‘নুমায়িশ ২০২৬’। গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরের ‘গ্যালারি গোল্ড’-এ দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী ও বিক্রি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাতে তৈরি করা চকলেট, নিমকি, ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিস, উল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী, ব্যাগ, জুয়েলারি, জামাকাপড় মিলিয়ে মোট ২১ টি স্টল দেওয়া হয়। প্রতি বছরের মত এবারেও প্রদর্শনীতে ভালোই সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কাটজুনগর হেল্পিং হ্যান্ড সোসাইটির সদস্যরা। প্রদর্শনীতে বিক্রি হওয়া সামগ্রী থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যায় করা হবে প্রান্তিক শিশুদের পড়াশোনার উন্নয়নে।
হেল্পিং হ্যান্ড সোসাইটির সভাপতি অঙ্কিত মিত্র বলেন,‘‌এই ধরণের প্রদর্শনীতে আমরা মূলত তাদেরকেই আনার চেষ্টা করি, যাদের মুখ অপরিচিত। পিছিয়ে পড়া অনেকেই আছেন যারা ভাল হাতের কাজ জানেন কিন্তু তাদের সামগ্রী বিক্রি করার মত উপযুক্ত জায়গা পাচ্ছেন না। অনেক গৃহবধূ আছেন যারা ভালো শিল্পী কিন্তু নিজেদের শিল্পী সত্ত্বার বিকাশ ঘটাতে পারেন না। আমরা মূলত এই ধরণের মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করি, তাদের জন্যই এগিয়ে যাই।’‌
এক ঝাঁক তরুণ তরুণীদের হাতে তৈরি হওয়ায় এই সংস্থায় বর্তমানে ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের কেউ স্কুল শিক্ষক, কেউ কলেজে পড়ান, কেউ ব্যাঙ্কে কর্মরত তো কেউ আবার তথ্য প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সাইকোলজিস্টও আছেন। এমনকি স্কুল, কলেজের পড়ুয়ারাও যুক্ত। যে যার পেশায় থেকে যেভাবে উপার্জন করেন তার কিছুটা অর্থ তারা সংস্থার কাজের জন্য বাঁচিয়ে রাখেন। এছাড়াও কিছু সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পান। তাঁদের মধ্যেই একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী পিনাকী গাঙ্গুলি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে হেল্পিং হ্যান্ডের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধিত হওয়ার পর পিনাকী গাঙ্গুলি এই সকল তরুণ তুর্কীদের কাজের প্রশংসা করে বলেন,‘এই বয়সের ছেলেমেয়েরা যেভাবে সমাজের জন্য এগিয়ে এসেছে তা দেখে আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমরা যে যেরকম পেশাতেই থাকি না কেন তার মধ্যে থেকে একটু হলেও মানুষের পাশে থাকতে পারলে এর চেয়ে আনন্দের কী আছে। সমাজের জন্য কিছু করতে পারলে কারও মুখে হাসি ফোঁটাতে পারলে তখনই মনে হবে জীবনটা সার্থক। এই বয়সে অধিকাংশই চায়ের দোকানে, ক্যাফেতে আড্ডায় মগ্ন থাকেন, ব্যস্ত থাকেন পরনিন্দা,পরচর্চায়। তার মধ্য দিয়ে ছোট ছোট এই ছেলেমেয়েরা ব্যাতিক্রমী। আমি আমার সাধ্যমত ওদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ওরা অসহায় মানুষদের জন্য আরও এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা রাখি।’‌
গ্রামের স্কুলগুলিকে শহরের মত গড়ে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন। এবিষয়ে অঙ্কিত মিত্র জানিয়েছেন, মানুষের পুরনো ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে সুন্দরবন, শান্তিনিকেতনের মত জায়গায় আমরা মডেল স্কুল তৈরি করছি। পুরনো কম্পিউটার, ল্যাপটপ যার বাড়িতে যেমন রয়েছে সেগুলি নিয়ে সারিয়ে একটা কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের পড়ুয়াদের এআই শেখানো, কম্পিউটার, ইংরেজি শেখানো হয়। তার সঙ্গে আদিবাসী এলাকায় কাজ করছি। ঝড়খালিতে বিরিঞ্চিবাড়ি হাইস্কুলকে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। খগেন্দ্রনাথ স্মৃতি স্কুলের সঙ্গে কাজ চলছে। কোন্ননগরে বাঁসাই প্রচেষ্টা নামে একটি সংস্থার সঙ্গে আমরা বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে কাজ করছি। স্পেশ্যালঅলিম্পিকসে ওরা যায়। ওদের খেলাধুলো সংক্রান্ত যা যা সামগ্রী দরকার হয় তার সবকিছুতেই আমরা সহযোগিতা করি। টালিগঞ্জ রামকৃষ্ণ ভাবাদর্শ শিক্ষা প্রাঙ্গনে, বস্তি এলাকাতেও কাজ করছি। ৩০০–৪০০ মহিলাকে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। মূলত কারিগরী শিক্ষা, স্কিল ডেভলপমেন্ট, ইংরেজি শেখানো, পড়াশোনায় সহযোগিতা করা, নীতি শিক্ষা, আধ্যাত্বিক শিক্ষার বিকাশের চেষ্টা করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিলেন হেল্পিং হ্যান্ডের সহ সভাপতি ইপ্সিতা কারফর্মা সহ বাকি সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *