কলকাতা: যে সিদ্ধপিঠে ভগবানের আগে ভোগ দেওয়া হয় ভক্তের কাছে। বীরভূম জেলার সেই পবিত্র পীঠ যেখানে কথিত আছে সতীমাতার ত্রিনয়ন পড়েছিল। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন এখানে বলা হচ্ছে তারাপীঠের কথা। এবং তারাপীঠ যেখানে আসে সেখানেই মায়ের পরম ভক্ত বামাক্ষ্যাপার নাম তো আসবেই। তার সঙ্গে আসবে তারাপীঠের মহাশ্মশান। প্রচলিত কথা অনুযায়ী বামাক্ষ্যাপা অভুক্ত থাকলে নাকি মা তারাও অভুক্ত থাকেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় বামাক্ষ্যাপা কাটিয়েছিলেন তারাপীঠ শ্মশানে।
৫৪ তম বর্ষে দক্ষিণ কলকাতার পূর্বপুটিয়ারি অঞ্চলের যুব সম্মিলনী ক্লাবের কালীপুজোর থিম তৈরি হচ্ছে তারাপীঠ মহাশ্মশান এবং মা তারা ও বামাক্ষ্যাপার অলৌকিক ঘটনার উপরে। থিমের নাম ভক্তি। যেখানে বামাক্ষ্যাপা কঠোর তপস্যা করে মাকে পেয়েছিলেন। বামাক্ষ্যাপা এবং মা একে অপরকে নিজের হাতে করে খাইয়ে দিচ্ছেন এমনই ঘটনার সম্মুখীন হবেন দর্শক। লাইভ শোয়ের মাধ্যমে দেখানো হবে। শুধু তাই নয় শ্মশানে যে অন্যান্য আচার বিচার চলতে থাকে তাও দেখানো হবে বিভিন্ন ঘটনাবলীর মাধ্যমে যেমন কাঠের চুল্লি – সেখানে এক জায়গায় পুড়ছে মরদেহ, কোথাও তা আধ পোড়া হয়ে রয়েছে। যে শ্মশানে নিজেদের পারিবারিক মঙ্গলের জন্য অথবা নিজেদের দোষ কাটাতে ভক্তরা ভিড় করেন এবং পূজা পাঠ করেন সেই চিত্র তুলে ধরা হবে। বামাক্ষ্যাপা যে পঞ্চমুন্ডের আসনে বসে মা তারার দর্শন পেয়েছিলেন তার আদলেও তৈরি হচ্ছে এখানে সেই আসন।
অনির্বাণ মল্লিক, বাবাই সাপুই এবং সুবল সমাদ্দারের কল্পনা ও রূপদানের মাধ্যমে পূজা মন্ডপ তৈরি হচ্ছে। পূজা কমিটির সদস্য শুভঙ্কর বিশ্বাস জানান, ” বিগত বছরগুলিতে আমাদের এই পূজা মন্ডপ ভূতের বিভিন্ন রূপ এবং ভুতুড়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আমরা তৈরি করেছি, কিন্তু এই বছর বেশ কিছুটা বদল এনে তারাপীঠ মহাশ্মশান এবং তাকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা তার সাথে বামাক্ষ্যাপার চরিত্রকে আমরা দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”
প্রতিবছরের মতন ৫৪ তম বর্ষেও রীতিমত ভালো দর্শক টানতে চলেছে যুব সম্মিলনী, এই বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।
এবছর ভক্তি – তে যুব সম্মিলনী

