দীপ প্রকাশন নিয়ে এল আইএএস অফিসার সি. মুরুগানের আকর্ষণীয় উপন্যাস ‘রুস্তম খান: সন অফ নোয়াখালি’ (Rustam Khan S/O Noakhali)

– বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরীর উপস্থিতিতে বইটির বাংলা সংস্করণ ‘নোয়াখালির রুস্তম খান’-এরও আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটল –

কলকাতা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬: দীপ প্রকাশন আজ আইএএস অফিসার সি. মুরুগানের লেখা নতুন উপন্যাস ‘রুস্তম খান: সন অফ নোয়াখালি’ প্রকাশ করেছে। কলকাতার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী বইটির ইংরেজি সংস্করণের পাশাপাশি এর বাংলা সংস্করণ ‘নোয়াখালির রুস্তম খান’-এরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র পরবর্তী সময়ে কলকাতায় ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা এবং তার ধারাবাহিকতায় নোয়াখালিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসে একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে এসেছে—মানুষ কি ধর্মের জন্য, নাকি ধর্ম মানুষের জন্য? কলকাতা থেকে নোয়াখালি পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রশ্নটি এমন এক সমাজকে আলোড়িত করে, যা তখন নিজের অস্তিত্বকেই নতুন করে চেনার লড়াইয়ে লিপ্ত। এই উত্তাল সময়ে, গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র—লামচারের তরুণ রুস্তম খান—স্বপ্ন দেখে জমিদারকন্যা নীলাঞ্জনার। কিন্তু তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে ধর্ম, শ্রেণি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্রমবর্ধমান দাবানল।

ভাগ্যের ফেরে কলকাতায় ভাগ্য অন্বেষণে যাওয়া রুস্তম আবার ফিরে আসে নোয়াখালিতে। তার ভালোবাসার ওপর তখন চেপে বসে এক নতুন দায়িত্ব—মানুষের প্রাণ বাঁচানোর দায়। যখন তার চারপাশের মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে শত্রু বেছে নিচ্ছে, তখন রুস্তমকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—সে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? নিজের ঘর এবং চারপাশের পৃথিবীকে গ্রাস করতে থাকা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মোকাবিলা করে সে কি তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে? তার কাছে অগ্রাধিকার কোনটি? ঘৃণা আর মৃত্যুর ছায়ায় ঢাকা পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে টিকে থাকতে গেলে কী মূল্য দিতে হয়? ভালোবাসা, সাহস আর মানবিকতার এই মর্মস্পর্শী আখ্যানটিই দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর। “পশ্চিমবঙ্গে আমার কর্মজীবনের দুই দশকেরও বেশি সময় কাটানোর সুবাদে এই রাজ্যের ভূ-প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে আমার এক গভীর পরিচিতি গড়ে ওঠে। আর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই রাজ্যকে পটভূমি করে একটি গল্প লেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার মধ্যে তৈরি হয়। গল্পটি লেখার প্রস্তুতিকালে আমি শিয়ালদহের ‘গ্র্যান্ড টাওয়ার হোটেল’, নোয়াখালির দাঙ্গা, জীবিকার সন্ধানে নোয়াখালি থেকে কলকাতায় আসা মুসলমান সম্প্রদায় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ হারানো নিরপরাধ মানুষদের বিষয়ে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করি। এই গল্পের মাধ্যমে আমি পাঠকদের কাছে একটি সহজ অথচ গভীর বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি—মানুষকে কেবল তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়; বরং তাদের মধ্যে যে মানবিকতা ও সহানুভূতি রয়েছে, তাকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন,” বলেন লেখক সি. মুরুগান।

‘দীপ প্রকাশন’-এর স্বত্বাধিকারী শঙ্কর মণ্ডল বলেন, “‘রুস্তম খান এস/ও নোয়াখালি’ (Rustam Khan S/O Noakhali) মানবিকতাকে উপজীব্য করে লেখা একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী উপন্যাস, যা গভীর আবেগ ও সততার সঙ্গে রচিত। ইতিহাসের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পটভূমিতে লেখা এই প্রেমের গল্পটি একই সঙ্গে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, লোকগাথা এবং ভৌগোলিক সৌন্দর্যের এক চমৎকার আখ্যান। কাহিনিটি এতটাই চিত্তাকর্ষক যে, আমরা এটিকে আরও বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই এবং বইটির বাংলা সংস্করণ ‘নোয়াখালির রুস্তম খান’ প্রকাশের পরিকল্পনা করি। আমরা নিশ্চিত যে, পাঠকরা এই গল্পটি উপভোগ করবেন।”

বই দুটির প্রতিটির মূল্য ৪৫০ টাকা। এগুলো বিভিন্ন নামী বইয়ের দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *