কলকাতা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬: দুর্গাপুজোকে ঘিরে যখন সেজে উঠেছে তিলোত্তমা কলকাতা, তখন উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত মণিপাল হসপিটালস কলকাতা। শহরের পাঁচটি ইউনিট—ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, ঢাকুরিয়া, সল্টলেক এবং ব্রডওয়ে—উৎসবের দিনগুলিতেও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কারণ, উৎসবের দিনেও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি থেমে থাকে না।
দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে মণিপাল অ্যাম্বুল্যান্স রেসপন্স সার্ভিস (MARS)-এর অ্যাম্বুল্যান্সগুলি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর ফলে উৎসবের দিনগুলিতে শহরের বাসিন্দা ও আগত দর্শনার্থীরা যাতে সময়মতো জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মণিপাল হসপিটালসের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন চালু থাকবে টেলিকনসালটেশন পরিষেবা। এর মাধ্যমে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে কোনও সময় ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা উৎসবের দিনগুলিতে টেলিকনসালটেশন এবং হাসপাতালে সরাসরি উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে উপলব্ধ থাকবেন, যাতে দিন-রাত সর্বক্ষণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়।
দুর্গাপুজোর সময় বিশেষভাবে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে মণিপাল হসপিটালস একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিদের জন্য একটি সচেতনতামূলক ও ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়। এই অধিবেশনে জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বিপদের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং দ্রুত জরুরি পরিষেবার সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়। উৎসবের ব্যস্ত সময়ে প্রবীণ নাগরিক ও তাঁদের পরিচর্যাকারীদের জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক জ্ঞান দিয়ে সক্ষম করে তোলার এই উদ্যোগ মণিপাল হসপিটালসের জনস্বাস্থ্য ও রোগী সুরক্ষার প্রতি অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করে।
অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর, মণিপাল হসপিটালস, ইস্ট,বলেন, “দুর্গাপুজো এমন একটি সময়, যখন কলকাতা প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। শহরের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লক্ষ লক্ষ মানুষ উৎসবে যোগ দিতে, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং আনন্দ উদ্যাপন করতে আসেন। এই সময়ে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার অগ্রাধিকার হল স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে সহজে পাওয়া যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য করা যায়, তা নিশ্চিত করা। আমাদের ২৪×৭ জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, টেলিকনসালটেশন ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা প্রস্তুতির মাধ্যমে পুজোর দিনগুলিতে শহরবাসীর পাশে থাকতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যে কোনও চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দিতে আমাদের দল সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই, নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সহায়তা সব সময় পাওয়া যাবে—এই আশ্বাস নিয়েই মানুষ নিশ্চিন্তে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন।”
ডা. অশোক মিশ্র, প্রধান কনসালট্যান্ট, জরুরি বিভাগ,মণিপাল হসপিটালস, ঢাকুরিয়া বলেন, “দুর্গাপুজোর সময় যখন শহরের রাস্তাঘাট উৎসবের ভিড়ে মুখরিত থাকে, তখন জরুরি পরিস্থিতিতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা থেকে শুরু করে আঘাত ও দুর্ঘটনা—বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের জরুরি চিকিৎসা দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিষেবা এবং টেলিকনসালটেশনের সুবিধার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও উপযুক্ত চিকিৎসা পান। পেশাদার চিকিৎসা সহায়তা যে কোনও সময় পাওয়া যাবে—এই নিশ্চয়তা দিয়ে মানুষকে আরও নিশ্চিন্তে উৎসব উদ্যাপনে সাহায্য করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ডা. কিশেন গোয়েল, কনসালট্যান্ট, জরুরি বিভাগ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার, মণিপাল হসপিটালস, ব্রডওয়ে ও সল্টলেক ক্লাস্টার বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার প্রাণস্পন্দন। তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের উন্নত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নেটওয়ার্ক, ২৪ ঘণ্টার টেলিকনসালটেশন ব্যবস্থা এবং নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক দল উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিটি পরিবারকে নিশ্চিন্ত রাখতে প্রস্তুত। গভীর রাতে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন হোক কিংবা রাস্তায় ঘটে যাওয়া গুরুতর কোনও দুর্ঘটনা—আমাদের দল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্যে হাসপাতালে পৌঁছনো পর্যন্ত, সকলের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পুজোর আনন্দে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মণিপাল হসপিটালস কলকাতা, ২৪ ঘণ্টা মিলবে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা

