এই দুর্গাপূজায় ‘নতুন বাঙালিয়ানা’-র সৃজনীদের জন্য তনিষ্ক  নিয়ে এল ‘আগমন’ 

কলকাতা, ৩রা অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপূজার উৎসবে মেতে উঠেছে বাংলা; আর এই আবহে টাটা গ্রুপের অন্তর্গত ভারতের বৃহত্তম গয়না বিপণন ব্র্যান্ড ‘তনিষ্ক’  তাদের উৎসবের বিশেষ গয়নার সম্ভার—‘আগমন’—উন্মোচন করল। ‘আগমন’ এই ঋতুর নানা তাৎপর্যকে উদযাপন করে—পূজার আগমন, মা দুর্গার আগমন এবং একজন নারীর নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনালগ্নে পদার্পণ।
 অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় এই সংগ্রহটি বাংলার রাজবাড়িগুলোর স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেছে। ঐতিহাসিক রাজবাড়িগুলোর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তোরণ বা খিলানগুলোকে এখানে রূপান্তর, সম্ভাবনা এবং নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এই তোরণগুলো যেন সমসাময়িক বাঙালি নারীদের যাত্রাপথের রূপক—যে নারীরা নিজেদের শিকড়কে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নিজেদের গন্তব্যও নিজেরাই নির্ধারণ করেন। ‘আগমন’ সেইসব ‘সৃজনী’ বা সৃজনশীল নারীদের উদযাপন করে, যারা সম্ভাবনার তোরণ পেরিয়ে নিজেদের পথ তৈরি করেছেন, নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় নিজেদের চারপাশের জগতে পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন।

এই সংগ্রহে বাংলার রাজবাড়ির তোরণের আভিজাত্যকে হারম, সীতাহার, চোকার, টাই-হার এবং নেকলেসের রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাজবাড়ির স্থাপত্যশৈলী—যেমন তোরণের কারুকার্য, রট আয়রন বা লোহার কাজ এবং কাঠের ওপর স্টুকো বা খোদাইয়ের কাজ—থেকে অনুপ্রাণিত মোটিফ, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং আধুনিক গড়নের সমন্বয়ে এই গয়নাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি গয়না বাংলার সমৃদ্ধ দৃশ্যমান ঐতিহ্য এবং উৎসবের গয়নার আধুনিক রূপের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ‘নতুন বাঙালিয়ানা’-র সেই ‘সৃজনী’ নারীর জন্যই এই আয়োজন—যিনি গর্বের সাথে নিজের শিকড়কে বহন করেন এবং একইসাথে নতুন সম্ভাবনাকে আপন করে নিয়ে নিজের পথ ও সত্তাকে গড়ে তোলেন।

‘আগমন’-এর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ‘নতুন বাঙালিয়ানা’-র সেই সৃজনী নারীরা—যারা বাংলার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ভবিষ্যতের নতুন রূপরেখা তৈরি করে চলেছেন। নিজের শিকড়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত হয়েও তাঁরা কেবল প্রথা বা ঐতিহ্যের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন; তাঁরা ঐতিহ্যকে নতুন করে ব্যাখ্যা করেন, তাকে আপন করে নেন এবং নিজেদের সত্তাকে প্রকাশের নতুন পথ খুঁজে বের করেন। পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা নতুন সম্ভাবনার পথে পা বাড়ান, নিজেদের চলার পথ নিজেরাই তৈরি করেন এবং নিজেদের জীবনের গল্প নিজেরাই গড়ে তোলেন। ‘আগমন’-এর মাধ্যমে তনিষ্ক (Tanishq) সেই ‘হয়ে ওঠার’ বা বিকাশের চেতনাকেই উদযাপন করছে—যা সমসাময়িক বাঙালি নারীর ঐতিহ্য থেকে আত্মপ্রকাশের দিকে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ধারণা থেকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এবং যা ছিল তা থেকে যা হতে পারে—তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক যাত্রা।

এই সংগ্রহের সূচনা উপলক্ষে তনিষ্কের চিফ মার্কেটিং অফিসার মিস পেলকি শেরিং বলেন, “‘সৃজনী’ (Srijoni) হলেন তিনি, যিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের ঐতিহ্যকে ধারণ করেন, আবার নিজের জীবনের গল্প নিজে লিখতে দ্বিধা করেন না। ‘আগমন’ ঠিক সেই চেতনাকেই তুলে ধরে—এমন এক নারী যিনি সচেতনভাবে ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে জীবনের প্রতিটি নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন। এই সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা উৎসবের গয়নাকে কেবল সাজসজ্জার বস্তুর গণ্ডি থেকে বের করে আরও গভীর কোনো আবেগের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি—যেমন নতুন কিছুর আগমন, সম্ভাবনা এবং নিজের সত্তাকে নতুন করে গড়ে তোলার অনুভূতি। গয়নার নকশা থেকে শুরু করে এর সূক্ষ্ম কারুকাজ—প্রতিটি সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে সেই আবেগের ওপর ভিত্তি করে। ‘আগমন’ কেবল একটি গয়নার সংগ্রহই নয়, বরং এটি একটি বিশেষ মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গি।”

এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মিস মিমি চক্রবর্তী বলেন, “‘আগমন’-এর পেছনের ভাবনাটি শোনার পর আমার খুব আপন মনে হয়েছিল। আমার মনে হয়, প্রতিটি বাঙালি নারীই জানেন—নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরেও কীভাবে নতুন কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়—আর ‘সৃজনী’ ঠিক এমনই একজন নারী। এই সংগ্রহের অংশ হতে পারাটা আমার নিজের যাত্রারই যেন এক সম্প্রসারণ বলে মনে হচ্ছে; আর আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে তনিষ্ক এমন নারীদের উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে।”

‘আগমন’-এর পাশাপাশি তনিষ্ক নিয়ে আসছে ‘সৃজনী সম্মান’ —এটি এমন এক অভিনব বার্ষিক মঞ্চ যা সেইসব ‘সৃজনী’ নারীদের উদযাপন করে, যাঁরা তাঁদের কাজ, চিন্তাভাবনা, সাহস ও অবদানের মাধ্যমে বাংলাকে সমৃদ্ধ ও গড়ে তুলছেন। ‘নতুন বাঙালিয়ানা’-র ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, এই প্ল্যাটফর্মটি সমগ্র বাংলা জুড়ে এমন সব নারীকে স্বীকৃতি জানাবে—যাঁদের জীবনকাহিনি প্রথাগত গণ্ডি ভেঙে নতুন কিছু করার সাহস, পরিবর্তন আনার প্রয়াস এবং উত্তরসূরিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

‘সৃজনী সম্মান’-এর প্রথম সংস্করণে এই কাহিনিগুলোকে সামনে নিয়ে আসবেন তিন বিশিষ্ট নারীর সমন্বয়ে গঠিত এক জুরি বোর্ড। তাঁরা প্রত্যেকেই ‘নতুন বাঙালিয়ানা’-র সৃজনশীল সত্তার ভিন্ন ভিন্ন দিককে মূর্ত করে তোলেন: তনিস্ক -এর চিফ মার্কেটিং অফিসার মিস পেলকি শেরিং; অভিনেত্রী    মিমি চক্রবর্তী; এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমাজকর্মী মিস নন্দিতা দাস। তাঁদের নিজেদের জীবনযাত্রা এমন সব নারীর প্রতিচ্ছবি, যাঁরা নিজেদের শিকড় বা সত্তার সাথে যুক্ত থেকেও প্রতিনিয়ত নিজেদের কাজ, সিদ্ধান্ত ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নতুন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করে চলেছেন। তাঁরা সমগ্র বাংলা থেকে এমন নারীদের খুঁজে বের করবেন ও সম্মানিত করবেন, যাঁদের জীবনযাত্রা ‘সৃজনী’-র সেই মূল ভাবনারই প্রতিফলন। ২০২৭ সালের মার্চ মাসে চূড়ান্ত পর্বের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগটি সমগ্র বাংলার নারীদের জন্য এক বিশেষ স্বীকৃতির মুহূর্ত গড়ে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *