লেক কালীবাড়িতে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র ভক্তিভাবনা ফুটে উঠল শ্যামা সঙ্গীতের এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যায়

চলচ্চিত্রটি ২০ নভেম্বর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে
বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের কণ্ঠ, চলচ্চিত্রের পরিচালক এবং প্রধান কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে লেক কালীবাড়ির পবিত্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক সঙ্গীতমুখর অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে সাধক বামাক্ষ্যাপার অসাধারণ আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং মা তারার প্রতি তাঁর অটল ভক্তিকে তুলে ধরা হয়।
কলকাতা, ৪ নভেম্বর ২০২৬: চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে, এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট (SVF Entertainment) এবং লেক কালীবাড়ি কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালিমাতা মন্দির’—যা ‘লেক কালীবাড়ি’ নামেই অধিক পরিচিত—সেখানে আয়োজিত হয় ‘শ্যামা সঙ্গীতের সন্ধ্যা’। দেবী মায়ের প্রতি বাংলার চিরাচরিত ভক্তিভাবনার ধারায় অনুপ্রাণিত এই সন্ধ্যায় সাধক বামাক্ষ্যাপার আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক জগতকে জীবন্ত করে তোলা হয়। সাধক বামাচরণ ও মা তারার গভীর সম্পর্কের প্রতি নিবেদন করা হয় এক সঙ্গীতময় শ্রদ্ধাঞ্জলি।
লেক কালীবাড়ির পবিত্র ও শ্রদ্ধাসিক্ত পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল বিশ্বাস, ভক্তি এবং বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রথাগত পূজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে; এরপর পরিবেশিত হয় নামগান, যা পুরো পরিবেশকে এক গভীর আধ্যাত্মিক ও ভক্তিপূর্ণ আবহে ভরিয়ে তোলে। লেক কালীবাড়ি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহ এই উদ্যোগটিকে সফল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট এবং ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চলচ্চিত্রটির পুরো দল সেবাইত শ্রী নিতাই চন্দ্র বসু ও লেক কালীবাড়ি পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, যারা এই পবিত্র স্থানে এমন একটি আয়োজনের সুযোগ করে দিয়েছেন।
এই সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্টের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র উপস্থাপনা, যা পরিচালনা করেছেন সায়ন্তন ঘোষাল। পরিচালকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এই চলচ্চিত্রের প্রধান কুশীলব সব্যসাচী চৌধুরী ও পায়েল দে। তাঁদের এই প্রাণবন্ত আলোচনায় উঠে আসে ছবিটির সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, এর আধ্যাত্মিক ভিত্তি এবং বাংলার অন্যতম শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জীবনকে বড় পর্দায় তুলে ধরার গুরুদায়িত্বের বিষয়টি।
সব্যসাচী চৌধুরী, যিনি নামভূমিকায় ‘সাধক বামাচরণ’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং একই সঙ্গে এই ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও সৃজনশীল পরিচালক হিসেবেও যুক্ত আছেন, তিনি এই চরিত্রের গভীর আবেগ, দৃঢ় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক তীব্রতা নিয়ে আলোচনা করেন। মা তারার চরিত্রে অভিনয় করা পায়েল দে তুলে ধরেন এমন এক চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা, যা এই চলচ্চিত্রের মূল আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই আলোচনাটি সাধক বামাক্ষ্যাপার অন্তরাত্মাকে উন্মোচিত করে—যেখানে ভক্ত ও দিব্য জননীর মধ্যে গড়ে ওঠে নিঃশর্ত ভালোবাসা, অটল বিশ্বাস ও পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক অসাধারণ বন্ধন। এই সন্ধ্যায় ছবিটির টিজারও মুক্তি পায়, যা দর্শকদের এই গভীর ও আবেগঘন চলচ্চিত্রযাত্রার প্রথম ঝলক দেখার সুযোগ করে দেয়।
‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের অনন্য সঙ্গীত পরিকল্পনা। তাঁর সৃজনশীল অবদান ছবিটিকে এক স্বতন্ত্র শ্রুতি-পরিচয় দিয়েছে, যা এর আবেগীয় গভীরতা ও আধ্যাত্মিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বাংলার ভক্তিধারার ঐতিহ্যে প্রোথিত এই চলচ্চিত্রের সঙ্গীত সাধক বামাচরণ ও মা তারার গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলে এবং কাহিনি বর্ণনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ইউটিউবে গানগুলো দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছে; বিশেষ করে ৩ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘আমি মন্ত্র তন্ত্র কিছুই জানি না মা’ গানটি দর্শকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব ভালোবাসা পেয়েছে। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সঙ্গীত পরিকল্পনা চলচ্চিত্রের আখ্যানের আবেগ ও ভক্তিভাবকে একসূত্রে গেঁথেছে, যা বাংলার সমৃদ্ধ সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ছবিটির সংযোগকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে ছিল এক দীর্ঘ সঙ্গীত পরিবেশনা, যেখানে অংশ নেন বাংলার পাঁচ বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী—মনোময় ভট্টাচার্য, পার্থসারথি একলব্য, জয়তী চক্রবর্তী, সত্যজিৎ দেব রায় এবং অতনু মিশ্র। শ্যামাসঙ্গীতের এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা মা কালীর প্রতি ভক্তির চিরন্তন সঙ্গীতধারাকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। তাঁরা শ্রোতাদের নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বাস, আকুলতা, প্রেম এবং পরম জননীর চরণে আত্মসমর্পণের এক আবেগঘন যাত্রায়। প্রতিটি পরিবেশনা হয়ে উঠেছিল ভক্তির এক অনন্য প্রকাশ, যা ভক্ত ও মায়ের সম্পর্কের নানা দিককে মূর্ত করে তুলেছিল। এই সঙ্গীতসন্ধ্যাটি উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল, যেখানে শিল্পী ও শ্রোতারা বাংলার ভক্তি ও সঙ্গীত ঐতিহ্যের এক সম্মিলিত প্রকাশে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *