কলকাতা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: যারা প্রতিদিন সমাজকে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও খবরের মাধ্যমে সচেতন করেন, তাঁদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা গেলে সেই বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে। সমাজে সচেতনতা তৈরিতে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মাথায় রেখে, মণিপাল হসপিটালস কলকাতা ‘হেলদি হার্ট বেঙ্গল’ নামে মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করল। এর অংশ হিসেবে কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের জন্য একটি বিশেষ হৃদ্স্বাস্থ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগে ছিল সিপিআর প্রশিক্ষণ, হৃদ্স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অভিজ্ঞ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা। এর মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচির সূচনা করল।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিপিআর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ডা. ইন্দ্রনীল দাস, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি – অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার, মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস এবং ডা. সুজয় দাস ঠাকুর, কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ইন-চার্জ – ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটাল, মুকুন্দপুর। প্রশিক্ষণে হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হলে কীভাবে তা বুঝতে হবে, কত দ্রুত সিপিআর শুরু করা দরকার এবং চিকিৎসা সহায়তা আসার আগে কীভাবে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিপিআর শেখার গুরুত্ব সম্পর্কে ডা. ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হলে প্রথম কয়েক মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় সিপিআর দিলে শরীরে রক্ত চলাচল কিছুটা বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং উন্নত চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত রোগীকে সাহায্য করা যায়। সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের সিপিআর শেখানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁরা সমাজের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং তাঁদের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সাংবাদিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাহায্য করার মতো দক্ষ করে তুললে সমাজে আরও অনেক মানুষ সিপিআর সম্পর্কে সচেতন হবেন।”
ডা. সুজয় দাস ঠাকুর বলেন, “সিপিআর শেখা খুব কঠিন নয়, তবে কত দ্রুত তা শুরু করা হচ্ছে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে এর ফল। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা যে কোনও জায়গায় হতে পারে। তাই শুধু চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষেরও এই সমস্যা কীভাবে চিনতে হবে এবং কীভাবে সঠিকভাবে সাহায্য করতে হবে, তা জানা দরকার। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরও বেশি মানুষকে সিপিআর শেখার জন্য উৎসাহিত করতে চাই, যাতে জরুরি সময়ে তাঁরা দ্রুত সাহায্য করতে পারেন।”
সিপিআর প্রশিক্ষণের পর সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের জন্য বিস্তারিত হার্ট হেলথ স্ক্রিনিং করা হয়। সমস্ত পরীক্ষা করা হয় ম্যানিপাল হসপিটালস টেলি হেলথ কিয়স্কের মাধ্যমে। এই প্রযুক্তিনির্ভর কিয়স্কে রক্তচাপ, SpO2, পালস, শরীরের তাপমাত্রা, BMI, শরীরের গঠন ও রক্তে শর্করার মাত্রা সহ মোট ২২টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এর পাশাপাশি ECG, লিপিড প্রোফাইল, HbA1c এবং হিমোগ্লোবিন পরীক্ষাও করা হয়। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একটি স্মার্ট হেলথ রিপোর্ট পাওয়া যায়।
এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও ছিল। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মণিপাল হসপিটালসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রেসক্রিপশন, বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা এবং হোম কেয়ার পরিষেবা সম্পর্কে জানতে পারেন। ফলে শুধুমাত্র পরীক্ষা নয়, প্রয়োজনে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থাও সহজ হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর একটি বিশেষ হার্ট হেলথ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা হৃদ্রোগ প্রতিরোধ, হৃদ্রোগের ঝুঁকি, কমবয়সীদের মধ্যে হৃদ্স্বাস্থ্যের সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
‘হেলদি হার্ট বেঙ্গল’ কর্মসূচির সূচনা সম্পর্কে ডা. পি কে হাজরা, ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অফ কার্ডিওলজি, মণিপাল হসপিটাল, ঢাকুরিয়া, বলেন, “ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে এমন এক সময়ে আসছে, যখন বাংলা দুর্গাপুজোর অন্যতম বড় উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বছর দুর্গাপুজো অক্টোবর মাসে হওয়ায় আমরা ম্যানিপাল হসপিটালস কলকাতার পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে ‘হার্ট মান্থ’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ‘হেলদি হার্ট বেঙ্গল’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করছি সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে। কারণ সংবাদমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও ভালো স্বাস্থ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘টিচার্স হার্ট সামিট’ থেকে শুরু করে ‘হেলদি হার্ট পুজো টিম’—প্রায় ৭৫টি পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হাসপাতালের বাইরে পাড়ায় পাড়ায় হৃদ্স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। আমরা এমন একটি পুজোর পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আনন্দের পাশাপাশি নিজের এবং পরিবারের হৃদ্স্বাস্থ্যের কথাও সবাই মনে রাখবেন।”
সংবাদমাধ্যমের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচি সম্পর্কে ডা. দিলীপ কুমার, ডিরেক্টর, ডিপার্টমেন্ট অফ কার্ডিওলজি, মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস, বলেন, “এই কর্মসূচিতে হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে—সচেতনতা, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে সাহায্য করতে হবে সেই প্রস্তুতি। সাংবাদিকরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি সিপিআর প্রশিক্ষণ এবং হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। সাংবাদিকদের কাজের চাপ অনেক বেশি, তাই অনেক সময় তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারেন না। সেই কারণেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ‘হেলদি হার্ট বেঙ্গল’-এর মাধ্যমে আমরা হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন মানুষের কাছে হৃদ্রোগ প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। ম্যানিপাল হেলথ কিয়স্ক দ্রুত এবং প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়। এর সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং পরবর্তী পরিষেবা যুক্ত হওয়ায় মানুষ নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
‘হেলদি হার্ট নেবারহুড’ এবং ‘টিচার্স হার্ট সামিট’ নিয়ে ডা. সৌম্য পাত্র, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কার্ডিওলজি অ্যান্ড ডিরেক্টর – ক্যাথ ল্যাব, মণিপাল হসপিটাল, মুকুন্দপুর, বলেন, “হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা আরও বাড়ানো দরকার। মানুষ যেখানে থাকেন, কাজ করেন এবং পড়াশোনা করেন, সেখানেই সচেতনতা পৌঁছে দিলে প্রতিরোধের কাজ আরও ভালোভাবে করা সম্ভব। ‘হেলদি হার্ট নেবারহুড’-এর মাধ্যমে ম্যানিপাল হসপিটালসের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭৫টি পাড়ার মানুষের কাছে হৃদ্স্বাস্থ্য শিবির, ব্যায়াম ও খাবার নিয়ে আলোচনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘টিচার্স হার্ট সামিট’-এর মাধ্যমে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মধ্যেও সিপিআর প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর হৃদ্যন্ত্র নিয়ে আলোচনা, ব্যায়াম, খাবার এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলা হবে। আমাদের লক্ষ্য হল এমন সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ হৃদ্স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন এবং জরুরি সময়ে সাহায্য করার জন্য আরও প্রস্তুত থাকবেন।”
কমবয়সীদের মধ্যে হৃদ্রোগের বাড়তে থাকা সমস্যা নিয়ে ডা. অরিজিৎ ঘোষ, এইচওডি – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে, বলেন, “হৃদ্রোগ বা হার্ট অ্যাটাক এখন শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। কমবয়সীদের মধ্যেও আমরা হৃদ্রোগের বিভিন্ন ঝুঁকি এবং কখনও কখনও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা দেখতে পাচ্ছি। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কম শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, ডায়াবেটিস, শরীরে বেশি কোলেস্টেরল এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কমবয়সীদেরও কোনও সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করা উচিত নয় বা শুধু বয়স কম বলে নিজেকে নিরাপদ ভাবা উচিত নয়। নিজের ঝুঁকিগুলি জানা, সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।”
দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে হৃদ্স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. শিবশঙ্কর সরকার, কনসালট্যান্ট – ডিপার্টমেন্ট অফ কার্ডিওলজি, ম্যানিপাল হসপিটাল, সল্ট লেক, বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুমোরটুলি, ঢাকি, প্যান্ডেল তৈরি করা মানুষ থেকে শুরু করে চন্দননগরের আলোর শিল্পী—অনেক মানুষের পরিশ্রমের মাধ্যমে পুজোর আনন্দ সম্ভব হয়। ‘হেলদি হার্ট পুজো টিম’ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই মানুষদের মধ্যে হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চাই এবং বাংলার পুজোকে সুন্দর করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের জন্য সম্মান জানাতে চাই। এই উদ্যোগে সিপিআর ও স্বাস্থ্যকর হৃদ্যন্ত্র নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচির পাশাপাশি তাঁদের সম্মান জানানো হবে। এর মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, যারা বাংলার পুজোকে আনন্দময় করে তোলেন, তাঁদেরও নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।”
‘হেলদি হার্ট বেঙ্গল’ কর্মসূচির মাধ্যমে ম্যানিপাল হসপিটালস কলকাতা হাসপাতালের গ

