Kolkata, 18 September 2026 – আল্ট্রাভায়োলেট আজ কলকাতা পুলিশের যানবাহনের তালিকায় তাদের ‘এক্স-৪৭ ক্রসওভার’ ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। ভারতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কাজের উপযোগী বিশেষ বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
লালবাজার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মোটরসাইকেলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশকে ১৮৩টি ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’ মোটরসাইকেল সরবরাহ করার মাধ্যমে এই পদক্ষেপটি ভারতের যেকোনো পুলিশ বাহিনীর দ্বারা বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্তির বৃহত্তম দৃষ্টান্তগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হলো। এর মাধ্যমে আল্ট্রাভায়োলেট হলো প্রথম ইলেকট্রিক দুই চাকার গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা, যাদের মোটরসাইকেল কলকাতা পুলিশের যানবাহনের তালিকায় স্থান পেল; যেখানে ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’-কে বিশেষভাবে পুলিশি কার্যক্রমের উপযোগ করে একটি বিশেষ টহলদারি গাড়ি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শ্রী নারায়ণ সুব্রহ্মণ্যম, সিইও তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা, আল্ট্রাভায়োলেট বলেন “পুলিশ বাহিনীর ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি সামরিক ধাঁচের অত্যাধুনিক মোটরসাইকেল ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’-এর এই নতুন সংস্করণটি উন্মোচন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। আল্ট্রাভায়োলেটের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ আমরাই প্রথম ইলেকট্রিক দুই চাকার গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা, যাদের তৈরি মোটরসাইকেল পুলিশ বাহিনীর তালিকায় স্থান পেল।
এই মাইলফলকের, আমাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এখন থেকে সেইসব পুলিশ কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে, যারা দিনরাত এক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আমাদের শহরকে নিরাপদ রাখতে কাজ করে চলেছেন—এটি ভেবে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। বিভিন্ন ধরণের কাজের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি এই ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে এবং বহুমাত্রিক কার্যনির্বাহী চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আল্ট্রাভায়োলেটের ওপর আস্থা রাখার জন্য আমরা কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই এবং এমন একটি উন্নত পরিবহন মাধ্যমের সাহায্যে তাদের কর্মকর্তাদের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত, যা শুধু ভবিষ্যৎমুখীই নয়, বরং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্যই বিশেষভাবে নির্মিত।“
কলকাতা পুলিশের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’-কে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে একটি উন্নত ইলেকট্রনিক্স আর্কিটেকচার বা প্রযুক্তিগত কাঠামো যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পুলিশের দৈনন্দিন ডিউটিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম—যেমন সায়রেন, হুটার, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, অফিশিয়াল ডিক্যালস বা স্টিকার, এলইডি ব্লিঙ্কার, মাইক হোল্ডার, ওয়াকি-টকি হোল্ডার এবং সাইড প্যানিয়ার (আনুষঙ্গিক বস্তু রাখার বক্স)—সহজে সংযুক্ত করা যায়। হস্তান্তরের আগে এই মোটরসাইকেলগুলোর ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, এর ফলে এই নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক, কানেক্টেড এবং পুলিশের কাজের উপযোগী যানবাহনের মাধ্যমে প্রচলিত পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে আরও আধুনিক মোবিলিটি সলিউশনে সহজে রূপান্তর সম্ভব হবে।
‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’ মোটরসাইকেলগুলি এবার কলকাতা পুলিশের প্রতিদিনের ডিউটির অংশ হয়ে উঠেছে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা প্রতীকী ব্যবহারের জন্য নয়, ‘এক্স-৪৭ স্কাইফোর্স’ টহলদারি সংস্করণটিকে পুলিশের দৈনন্দিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গতিশীল শহুরে পরিবেশে কাজ করা পুলিশকর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলের দ্রুত চলাচলের সুবিধার সঙ্গে বহুমুখী ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতাকেও একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
আল্ট্রাভায়োলেটের পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘এক্স-৪৭’-এ রয়েছে দ্রুত চলাচলের ক্ষমতা, উচ্চ গতিতে পারফর্ম করার সক্ষমতা, দীর্ঘপথ চলার উপযোগিতা এবং ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয়। ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সহজে দিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে উপযোগী। এর ক্রসওভার আর্কিটেকচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের শহুরে পরিস্থিতিতে চলাচলের পাশাপাশি ডিউটির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সঙ্গে বহন করা যায়। এক্স-৪৭-এর এরগোনমিক ডিজাইন, শক্তি সরবরাহের ক্ষমতা এবং মসৃণ রাইডিং অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময় ধরে ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
এক্স-৪৭-এর এই অন্তর্ভুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ এবং মোবিলিটির পরিবর্তিত প্রয়োজনীয়তার প্রতি কলকাতা পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। একই সঙ্গে, বাস্তব অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি কীভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি ভবিষ্যৎ-উপযোগী মোবিলিটি সলিউশন গ্রহণ করতে পারে, তারও একটি উদাহরণ তৈরি করেছে এই উদ্যোগ। এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এবং আরও স্মার্ট ও টেকসই শহুরে মোবিলিটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ব্যবহারের ফলে বাহিনীর সামগ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে শুধু পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, অপারেশনাল এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কলকাতা পুলিশ ভবিষ্যৎ-উপযোগী, ও প্রযুক্তিনির্ভর মোবিলিটির দিকে আরও এক ধাপ এগোল। একই সঙ্গে, এক্স-৪৭ ভারতীয় পুলিশের দৈনন্দিন ডিউটির বাস্তব প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তৈরি একটি ট্যাকটিক্যাল মেশিন হিসেবে এবার নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হল।

