- চার বছর ধরে চলা এই উদ্যোগটি আজ পশ্চিমবঙ্গের উৎসবের মরশুমের অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে
- ‘সবার পুজো, দুর্গাপুজো’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুজোয় নতুন জামা পরার অফুরন্ত আনন্দ এনে দেওয়া
কলকাতা, ৩ অক্টোবর ২০২৬: চার বছর আগে ইয়েস ব্যাংক এক বিশেষ উদ্যোগের সূচনা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশু যাতে দুর্গোৎসবের শুভ মুহূর্তে নতুন পোশাক পরতে পারে, তা নিশ্চিত করা। এ বছর ‘সবার পুজো, দুর্গাপুজো’ নামের এই উদ্যোগের চতুর্থ বর্ষে রাজ্যজুড়ে ১২,০০০ জন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিশুর মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হয়েছে। ইয়েস ব্যাংক, সত্যম রায়চৌধুরী ফাউন্ডেশন এবং রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা মেট্রোপলিটন ইস্ট-এর যৌথ উদ্যোগে কলকাতার জি. ডি. বিড়লা সভাগৃহে এই বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অভিজ্ঞ রোটারিয়ান তথা রোটারির প্রাক্তন ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ও ডিস্ট্রিক্ট লিটারেসি চেয়ার শ্যামশ্রী সেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা মেট্রোপলিটন ইস্ট ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এ বছর ১২,০০০-এরও বেশি নতুন পোশাক এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৯,০০০ এবং ২০২৪ সালে ৪,৭০০ শিশুর হাতে দুর্গাপুজোয় নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ইয়েস ব্যাংকের কর্মী, বিভিন্ন স্কুল, এনজিও, কর্পোরেট পার্টনার, হাউজিং সোসাইটি, স্থানীয় ক্লাব এবং ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসা অসংখ্য মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগ আরও বড় আকার পেয়েছে। তাঁদের অনেকের কাছেই ‘সবার পুজো, দুর্গাপুজো’ এখন পুজোর সময়ের একটি বার্ষিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।
চার বছর ধরে এই জনমুখী কর্মসূচিটি পুজোয় ‘নতুন জামা’ পরার চিরায়ত বাঙালি ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আসছে। ‘সবার পুজো, দুর্গাপুজো’ মূলত ইয়েস ব্যাংকের সেই ধারাবাহিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন—যেখানে আর্থিক পরিস্থিতি কোনও শিশুর দুর্গাপুজোর আনন্দকে ম্লান করতে পারে না। আগামী বছরগুলিতেও ব্যাংক এই ধারা অব্যাহত রেখে প্রতিটি দুর্গোৎসবে আরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছনোর এবং সমাজের সর্বস্তরে এক দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

