এভারেডি আলটিমার “Historic Toys, Iconic Power” উদ্যোগে সামিল ১৮ জন কারিগর। এভারেডি আলটিমা ব্যাটারির শক্তিতে ঐতিহ্যবাহী খেলনাগুলিকে নতুন রূপে সাজিয়ে আজকের শিশুদের কাছে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ।
প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে এভারেডি ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া লিমিটেড শিশুদের জন্য তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবন—লিমিটেড এডিশন হেরিটেজ রিমোট-কন্ট্রোলড টয়স—বাজারে এনেছে। কলকাতায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য উৎসবের আবহে এই খেলনাগুলি উন্মোচন করা হয়। পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে সঙ্গীত, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মাতৃশক্তির আরাধনার এই উৎসব উদ্যাপিত হয়। এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দেশীয় হস্তশিল্পের আইকনিক নিদর্শনগুলিতে নতুন যান্ত্রিক প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। বিশেষত, টেরাকোটার ঘোড়া, বাংলার পেঁচা এবং রাজা-রানি পুতুলকে উন্নত মানের ব্যাটারি শক্তির সাহায্যে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।
বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প ও খেলনাগুলি বহু বাড়িতেই পরিচিত। তবে এগুলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং কারুশিল্পের নেপথ্যের কাহিনি আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। কারণ, তারা রিমোট-কন্ট্রোলড গাড়ি, বাইক এবং ব্যাটারিচালিত নানা গ্যাজেটের সঙ্গে বড় হচ্ছে। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি ক্রমশ ছোটদের কাছে তার প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিল্পীদের হাতে তৈরি এই লোকশিল্পের নিদর্শনগুলির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং শৈল্পিক সত্তা রয়েছে, যা গণহারে তৈরি প্লাস্টিকের খেলনায় কখনওই পাওয়া সম্ভব নয়।
এই সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবধানের বিষয়টি উপলব্ধি করে এভারেডি তাদের উন্নত প্রযুক্তির আল্টিমা ব্যাটারির শক্তিকে ঐতিহাসিক মাটির ও কাঠের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর ফলাফল সত্যিই চমকপ্রদ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কিংবদন্তি টেরাকোটার ঘোড়া সামনের দিকে ছুটে যেতে পারবে, রঙিন কাঠের রাজা-রানি পুতুল ছন্দের তালে নাচবে এবং শুভ প্রতীক হিসেবে পরিচিত বাংলার পেঁচা দ্রুত গতিতে মেঝের উপর দিয়ে ছুটে বেড়াবে। রিমোট কন্ট্রোল যুক্ত করে এভারেডি প্রাচীন লোকশিল্পকে আধুনিক খেলাধুলার ভাষায় রূপান্তরিত করেছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি নিয়ে উৎসাহ ও সচেতনতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি, হাতে এই খেলনাগুলি তৈরি করা কারিগরদের জীবিকা শক্তিশালী করারও এটি একটি উদ্যোগ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে এভারেডি আল্টিমা ব্যাটারিকে, যা ভারতে তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি। খেলনা, গেমিং কন্ট্রোলার, চিকিৎসা সরঞ্জাম-সহ বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য এই ব্যাটারিগুলি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে এভারেডি ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া লিমিটেডের সিইও অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভারতের গৌরবময় অতীত ও প্রাণবন্ত বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ভারতের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের নিদর্শনগুলির নিজস্ব সত্তা ও ইতিহাস রয়েছে, যা গণহারে তৈরি আমদানি করা প্লাস্টিকের খেলনায় কখনওই পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এই প্রকল্পে কাজ করা ১৮ জন কারিগরের অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে আমাদের আল্টিমা ব্যাটারির শক্তিকে যুক্ত করে আমরা শুধু খেলনাগুলিকে চলমান করে তুলছি না; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যকে আরও কাছের করে তুলছি। একই সঙ্গে দেখিয়ে দিচ্ছি, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কীভাবে আজকের শিশুদের কল্পনাকে মুগ্ধ করতে পারে।”
এই উদ্যোগের সৃজনশীল ভাবনা গড়ে তোলা হয়েছে ওগিলভির সহযোগিতায়। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অন্তর্দৃষ্টি এবং শিশুরা কীভাবে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয়, সে সম্পর্কে আধুনিক ধারণার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ওগিলভির গ্লোবাল চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার (GCCO) সুকেশ নায়ক বলেন, “এই প্রকল্প উদ্দেশ্যনির্ভর উদ্ভাবনের একটি অসাধারণ উদাহরণ। আমরা এই লোকশিল্পের নিদর্শনগুলির সৌন্দর্যের মূল বৈশিষ্ট্য—তাদের স্বতন্ত্র গঠন, উজ্জ্বল রং এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব—পরিবর্তন করতে চাইনি। বরং এভারেডির আধুনিক শক্তি ব্যবহার করে এগুলিকে নতুন অভিব্যক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এই ঐতিহ্যবাহী সৃষ্টিগুলিকে নাচতে ও চলতে সক্ষম করে তোলার ফলে আমাদের লোকশিল্পের ঐতিহ্য আজকের শিশুদের কাছে আরও সহজলভ্য, আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।”
অভিনেত্রী রাইমা সেনের উপস্থিতিতে এভারেডি মুদিয়ালি ক্লাবের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এই রিমোট-কন্ট্রোলড ঐতিহ্যবাহী খেলনাগুলি উন্মোচন করে। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাইমা সেন বলেন, “এই সুন্দর লোকশিল্পের সৃষ্টিগুলিকে জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখে আমার খুব ভাল লাগছে! ছোটবেলায় আমি এই খেলনাগুলির মধ্যেই বড় হয়েছি। আমার ঠাকুমা সুচিত্রা সেন শ্যুটিং বা ছুটিতে শহরের বাইরে গেলেই আমার জন্য এমন একটি খেলনা নিয়ে আসতেন। এই খেলনাগুলির শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এভারেডি এবং এই কারিগরদের দল যেভাবে পরিচিত এই সৃষ্টিগুলিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে আজকের শিশুদের মধ্যে কৌতূহল ও উৎসাহ তৈরি হবে।”
এই লিমিটেড এডিশন খেলনাগুলি দুর্গাপুজোর সময় শুধুমাত্র এভারেডির ৯৫ পল্লি এবং মুদিয়ালি ক্লাবের স্টলে পাওয়া যাবে। ৯৫ পল্লি ও মুদিয়ালি ক্লাবের পুজো মণ্ডপগুলি তাদের মণ্ডপের থিমের মাধ্যমেই বরাবর ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতিকে সমর্থন ও উদ্যাপন করে এসেছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যকে সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসতে পেরে দুই পুজো কমিটিই উৎসাহ প্রকাশ করেছে। মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীরা স্টলগুলিতে প্রতি ঘণ্টায় আয়োজিত বিভিন্ন খেলা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যকলাপে যোগ দিতে পারবেন। সেই সঙ্গে উপহার হিসেবে এই খেলনাগুলি জিতে নেওয়ার সুযোগও থাকবে। এই লিমিটেড এডিশন খেলনাগুলি অবশ্য বিক্রির জন্য উপলব্ধ নয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এভারেডি নিশ্চিত করতে চাইছে, দেশের প্রাচীন কারুশিল্প যেন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে না যায়, বরং শক্তিশালী পদক্ষেপে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলে।

