পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন জুড়ে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির ব্যাপক আয়োজন

‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬’ এবং ‘বিশেষ অভিযান ৬.০’-এর অংশ হিসেবে, পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন জুড়ে পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও পরিবেশ-সংক্রান্ত নানা উদ্যোগের মাধ্যমে গান্ধী জয়ন্তী ও ‘স্বচ্ছতা পক্ষ ২০২৬’ পালন করা হয়েছে। রেলকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং যৌথ দায়িত্ববোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর এই কর্মসূচিগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে হাওড়ার বাপু উদ্যানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ‘স্বচ্ছতা শপথ’ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM)-এর পাশাপাশি ডিভিশনের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সত্য, অহিংসা, জনসেবা ও পরিচ্ছন্নতার আদর্শকে স্মরণ করে মহাত্মা গান্ধীকে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি দৈনন্দিন জীবনযাপন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে সেই আদর্শগুলিকে বাস্তবায়িত করার গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

এই অভিযানের অঙ্গ হিসেবে হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্থানে ‘স্বচ্ছতা শপথ’ গ্রহণ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলি হলো—হাওড়া, ব্যান্ডেল, টিকিয়াপাড়ার ‘সিক লাইন’ (Sick Line), হাওড়ার ‘রানিং রুম’, খাগড়াঘাট, বাজারশ, রামপুরহাট, বর্ধমান, কাটোয়া, বোলপুর, শেওড়াফুলি, আজিমগঞ্জ, বামনগাছি রেলওয়ে কলোনি এবং হাওড়ার গুলমোহর রেলওয়ে কলোনি। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ এবং রেলের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখার বিষয়ে রেলকর্মীদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনঅংশগ্রহণের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়। পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং আরও বেশি মানুষকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে রামপুরহাট, বর্ধমান, ব্যান্ডেল, বামনগাছি রেলওয়ে কলোনি ও গুলমোহর রেলওয়ে কলোনিতে ‘প্রভাত ফেরি’র আয়োজন করা হয়। এছাড়া বর্ধমান, কাটোয়া এবং হাওড়ার বামনগাছি রেলওয়ে কলোনিতে ‘শ্রমদান’ কর্মসূচি পালিত হয়, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতার বার্তাকে বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণে রূপান্তর করা হয়। পরিবেশগত স্থায়িত্ব ছিল এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রেল চত্বরকে আরও সবুজ করে তোলা এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজিমগঞ্জ, বোলপুর, শেওড়াফুলি, ব্যান্ডেল, ডানকুনি, তারকেশ্বর ও বলরামবাটিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এছাড়া লিলুয়ার সর্টিং ইয়ার্ড কোচিং ডিপোতে ‘এক পেড় মা কে নাম’ (মায়ের নামে একটি গাছ) কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়; এর আওতায় সবুজ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতীকী অবদান হিসেবে সেখানে চারাগাছ রোপণ করা হয়।

গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে হাওড়া কোচিং ডিপোতে বন্দে ভারত ট্রেনগুলোর জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রেনগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা এবং যাত্রীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও মনোরম ভ্রমণের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করা।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে হাওড়া ডিভিশন ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ (পরিচ্ছন্নতাই সেবা)-র বার্তাটিকে রেলওয়ে স্টেশন, কলোনি, কোচিং ডিপো, অফিস এবং অন্যান্য রেল চত্বরে ধারাবাহিক কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আধিকারিক, সুপারভাইজার, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

এই অভিযান ‘স্বচ্ছতা হি সেবা – পরিচ্ছন্নতা সকলের দায়িত্ব’—এই বার্তাটিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং রেলকর্মী ও সাধারণ মানুষকে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে উৎসাহিত করেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *