• গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার
কলকাতা, ০২ অক্টোবর, ২০২৬:
রেল ব্যবস্থা জুড়ে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ‘স্বচ্ছতা পাখওয়াড়া’-র আওতায় আজ (০২.১০.২০২৬) দেশব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে পূর্ব রেল ‘স্বচ্ছ ভারত দিবস’ পালন করেছে।
গান্ধী জয়ন্তী উদযাপনের পুণ্যলগ্নে কলকাতার নারকেলডাঙায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে।
সমগ্র দেশে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ২রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর সাথে সঙ্গতি রেখে স্বচ্ছ ভারত দিবস পালিত হয়। ২০১৪ সালের ২রা অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর সূচনার স্মারক হিসেবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ভারতের বিষয়ে মহাত্মা গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়িত করতে দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নারকেলডাঙা রেল কলোনির আরপিএফ ব্যারাকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে রেলকর্মী ও আধিকারিকদের স্বচ্ছতা শপথ পাঠ করিয়ে সমগ্র পূর্ব রেল জুড়ে স্বচ্ছ ভারত দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এছাড়া তিনি নারকেলডাঙা রেল কলোনিতে শ্রমদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রেল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেন।
এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে বলেন, “স্বচ্ছতা দিবস ও স্বচ্ছতা পাখওয়াড়া পালনের মাধ্যমে আমরা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে ছড়িয়ে দিচ্ছি, কারণ রাষ্ট্র গঠনে তিনি পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সারা বছরের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ ছাড়াও রেলওয়ে ২০২৬ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছতার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।”
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে এদিন নারকেলডাঙা রেল কলোনির আরপিএফ ব্যারাকের অভ্যন্তরে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টেরও উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি তিনি পূর্ব রেল মহিলা কল্যাণ সংস্থা (ERWWO/শিয়ালদহ) পরিচালিত ‘সৃজন কলা কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের পরিবেশিত একটি মনোজ্ঞ গীতিনাট্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেলের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার শ্রী শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং; প্রিন্সিপাল চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শ্রী ধনেশ্বর মোহান্ত; প্রিন্সিপাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার শ্রী বিক্রম গুপ্ত; প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ড. উদয় শঙ্কর ঝা; প্রিন্সিপাল চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শ্রী পরমানন্দ শর্মা; আইজি তথা প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার শ্রী অমিয় নন্দন সিনহা; শিয়ালদহের ডিভিসনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী রাজীব সাক্সেনা এবং পূর্ব রেলের অন্যান্য প্রধান বিভাগীয় প্রধানগণ।
পূর্ব রেলের বিভিন্ন ডিভিশন, ওয়ার্কশপ এবং সদর দপ্তর কার্যালয়গুলিতে স্বচ্ছতা শপথ গ্রহণ, শ্রমদানে সক্রিয় অংশগ্রহণ, “স্বচ্ছ রেল, স্বচ্ছ ভারত” বার্তা নিয়ে প্রভাত ফেরি আয়োজন এবং “এক পেড় মা কে নাম” উদ্যোগের আওতায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ ভারত দিবস পালিত হচ্ছে।
এই উদযাপনের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভ্যাসগুলিকে সুদৃঢ় করা, বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা এবং রেলকর্মী ও অংশীদারদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগগুলি পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “স্বচ্ছ ভারত দিবস পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সুরক্ষার প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পূর্ব রেলওয়ে তার কর্মী, সাফাই মিত্র এবং অন্যান্য অংশীদারদের স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করছে। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রীসাধারণ এবং সমাজের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”

