কলকাতা, আগস্ট ২০২৬: ‘বিশ্ব অঙ্গদান দিবস’ উপলক্ষে সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই (CMRI); রোটারি, ‘কনসার্ন ফর ক্যালকাটা’ এবং কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। এর লক্ষ্য ছিল অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং অঙ্গদাতা হওয়ার মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উৎসাহিত করা। ‘স্মৃতির চেয়েও বেশি কিছু রেখে যাওয়া – জীবনের ঊর্ধ্বে, নিজের ঊর্ধ্বে’ (Leave Behind More Than Memories – Beyond Life. Beyond Self.)—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সিএমআরআই অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অঙ্গদান চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা অঙ্গ-বিকলতায় (end-stage organ failure) আক্রান্ত রোগীদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখাতে পারে। তা সত্ত্বেও, সচেতনতা বাড়লেও ভুল ধারণা, তথ্যের অভাব এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অঙ্গদানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্যানেল আলোচনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং তুলে ধরেন কীভাবে অধিক সচেতনতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা রোগী ও দাতার কাছ থেকে প্রাপ্ত অঙ্গের প্রাপ্যতার মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সাহায্য করতে পারে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, যেমন—ডা. ফোরকান বি শেখ (কনসালট্যান্ট – জেনারেল অ্যাডভান্সড রোবোটিক সার্জারি ও রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি); ডা. সুনীল কুমার (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ফিজিশিয়ান); ডা. অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় (সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রধান – ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন); ডা. দীপ দাস (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোলজি ও নিউরো ইন্টারভেনশনস); এবং অধ্যাপক (ডা.) অর্পিতা রায় চৌধুরী (নেফ্রোলজিস্ট, প্রধান – ROTTO ও প্রেসিডেন্ট – ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট)। আলোচনাটি পরিচালনা করেন ডা. কৌশিক দাস (প্রধান – ডায়ালাইসিস ইউনিট)। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ‘কনসার্ন ফর ক্যালকাটা’-র প্রেসিডেন্ট শ্রী নারায়ণ পি জৈন এবং রোটারির ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর (২০২৮-২৯) শ্রী ব্রতিন্দ্র মল্লিক।
আলোচনায় অঙ্গদানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত, নৈতিক ও সামাজিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে ছিল সম্ভাব্য দাতাদের সময়মতো শনাক্তকরণের গুরুত্ব, সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবারের ভূমিকা এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার প্রতি জনমনে আস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা।
ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি, নেফ্রোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও নিউরোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ফলে এই আলোচনায় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে সিকে বিড়লা হসপিটালস-সিএমআরআই-এর জোনাল হেড ড. সোমব্রত রায় বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিকে বিড়লা হসপিটালস-সিএমআরআই এবং এর সহযোগীরা একটি সহজ অথচ জোরালো বার্তা তুলে ধরতে চায়: অঙ্গদান কেবল একটি চিকিৎসাগত সিদ্ধান্তই নয়—এটি কাউকে জীবনে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার একটি অনন্য উপায়।”
অঙ্গদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘বিশ্ব অঙ্গদান দিবস’ উপলক্ষে সিকে বিড়লা হসপিটালস, সিএমআরআই (CMRI)-এর উদ্যোগ

