‘
কলকাতা, ২২ আগস্ট ২০২৬: বয়সের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যখন সৃষ্টির চিরন্তন আনন্দের মিলন ঘটে, তখন কী হয়? সিনিয়র সিটিজেনস ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কলকাতার ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে ৫০ জন প্রবীণ নাগরিক রং, সৃজনশীলতা এবং নিজেকে প্রকাশ করার আনন্দ নতুন করে উপভোগ করলেন। ‘ক্রিয়েটিভিটি নেভার রিটায়ার্স’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই আর্ট থেরাপি ও ক্রিয়েটিভ ওয়েলনেস ওয়ার্কশপ-এর আয়োজন করে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের সহযোগিতায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পল।
এই উদ্যোগে বিশেষ মাত্রা যোগ করে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের দুই প্রবীণ চিকিৎসক, যাঁরা নিজেরাও দক্ষ চিত্রশিল্পী, তাঁদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় পেন্টিং ওয়ার্কশপ। তাঁরা হলেন ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ এবং ডা. সুমন্ত দে, লিড কনসালট্যান্ট – জেনারেল অ্যান্ড মিনিমাল অ্যাক্সেস সার্জারি। চিকিৎসকের পেশাগত ভূমিকার বাইরে গিয়ে তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শিল্পের মাধ্যমে যুক্ত হন এবং স্বাধীনভাবে রং, নকশা ও ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মি. কোমল দাশোরা, ক্লাস্টার ডিরেক্টর – মণিপাল হাসপাতালস (মুকুন্দপুর ক্লাস্টার) এবং ডা. সায়ন ভট্টাচার্য, সেক্রেটারি অ্যান্ড কিউরেটর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। পাশাপাশি প্রফেসর মুক্তিনাথ মণ্ডল, গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট, কলকাতা, ওয়ার্কশপে যোগ দিয়ে সৃজনশীল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেন এবং শিল্প, নিজেকে প্রকাশ করা ও সক্রিয় বার্ধক্যের উদযাপনকে আরও বিশেষ করে তোলেন।
এই উদ্যোগটি মণিপাল হাসপাতালের সিনিয়র সিটিজেনস হ্যাপিনেস উইক-এর অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল একটি সহজ অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস—সৃজনশীলতার কোনও বয়সসীমা নেই। অর্থবহ নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকদের একত্রিত করে সক্রিয় বার্ধক্য, আনন্দ এবং সামগ্রিক সুস্থতার বার্তা দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আর্ট থেরাপি ও ক্রিয়েটিভ ওয়েলনেস ওয়ার্কশপ এবং সিনিয়র সিটিজেনস স্পোর্টস সামিট ছিল এই উদ্যোগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। এই ওয়ার্কশপে শিল্পকে ব্যবহার করা হয়েছিল মানসিক প্রশান্তি, আবেগ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ এবং আত্ম-অন্বেষণের একটি মাধ্যম হিসেবে। অংশগ্রহণকারীরা পেন্টিং এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেদের ডুবিয়ে দেন। ঐতিহাসিক এই স্থানে একটি সকাল পরিণত হয়েছিল কল্পনা, ব্যক্তিসত্তা এবং নিজেকে প্রকাশ করার চিরন্তন আনন্দের এক প্রাণবন্ত উদযাপনে।
ওয়ার্কশপে অংশ নিয়ে ভারতমাতার একটি প্রতিকৃতি আঁকেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, “মণিপাল হাসপাতাল এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের উদ্যোগে আয়োজিত এই সুন্দর আর্ট ওয়ার্কশপে এতজন প্রবীণ নাগরিককে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলি আমাদের প্রবীণদের নিজেদের প্রকাশ করার, তাঁদের সৃজনশীলতার সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়ার এবং মুহূর্তটিকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বহু বছর কাজ করার সময় আঁকা আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এত বছর পর আবার হাতে তুলি তুলে ছবি আঁকার অনুভূতিটা ছিল সত্যিই অসাধারণ। আমি ভারতমাতার ছবি আঁকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কারণ তিনি প্রতিটি মায়ের প্রতীক এবং আমাদের মায়েদের প্রতি যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে, তারই প্রতিফলন। ছবি আঁকা শুরু করার সময় এটাই ছিল আমার প্রথম ভাবনা এবং সেই ভাবনাকে শিল্পের মাধ্যমে বাস্তবে ফুটিয়ে তুলতে পেরে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে।”
এই উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. সায়ন ভট্টাচার্য, সেক্রেটারি অ্যান্ড কিউরেটর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, বলেন, “ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল দেশের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শিত জাদুঘর। এটি শুধু একটি স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, কলকাতার শিল্প ও নান্দনিকতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতীক। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তি এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণের ভাবনাকে ধারণ করে এসেছে। যদিও এটি একটি ঔপনিবেশিক স্মৃতিসৌধ হিসেবে পরিকল্পিত ও নির্মিত হয়েছিল, এর ভিত্তিপ্রস্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে—এটি ‘ভারতের জনগণ’-এর অবদানে নির্মিত। সেই অর্থে, সময়ের সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধ তার মূল ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপটের অনেক ঊর্ধ্বে উঠে ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধের প্রতিফলন হয়ে উঠেছে—এমন এক সংস্কৃতি, যা বৈচিত্র্যকে মূল্য দেয়, পার্থক্যকে গ্রহণ করে এবং অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাস করে। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল যখন নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে, তখন এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক একটি পরিসরে পরিণত হতে দেখা সত্যিই আনন্দের। যেখানে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং তাঁদের সৃজনশীলতা, উৎসাহ ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে উদযাপন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্রিয়েটিভিটি নেভার রিটায়ার্স’-এর ভাবনা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সৃজনশীলতা, কৌতূহল এবং নিজেকে প্রকাশ করা
ক্রিয়েটিভিটি নেভার রিটায়ার্স’ উদ্যোগে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ৫০ জন প্রবীণ নাগরিককে নিয়ে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের বিশেষ আয়োজন

