মুম্বাই, ২৮ আগস্ট ২০২৬: ১৭ আগস্ট থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলমান ‘সতর্কতা সচেতনতা অভিযান ২০২৬’-এর (থিম: “সমৃদ্ধির জন্য সততা” বা “Probity for Prosperity”) অংশ হিসেবে, ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (নাবার্ড) ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মুম্বাইয়ে তাদের প্রধান কার্যালয়ে “সতর্কতা: সততা ও সুশাসন জোরদারকরণ” বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। ভারত সরকারের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনার শ্রী সুরেশ এন. প্যাটেল এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নাবার্ডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী জি এস রাওয়াত ও ড. অজয় কে সুদ, চিফ ভিজিল্যান্স অফিসার শ্রী ইউ দিনেশ শানভাগ এবং প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এবং সারা দেশ থেকে আগত জেলা উন্নয়ন ব্যবস্থাপকরা (DDM) অংশগ্রহণ করেন।
বিশিষ্ট অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে চিফ ভিজিল্যান্স অফিসার শ্রী ইউ দিনেশ শানভাগ সুশাসন, জনপ্রশাসন, ব্যাংকিং ও ভিজিল্যান্স বা সতর্কতামূলক তদারকি ক্ষেত্রে শ্রী প্যাটেলের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারকরণে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা স্বীকার করেন।
সমবেতদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে নাবার্ডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (DMD) শ্রী জি এস রাওয়াত সতর্কতামূলক কার্যক্রমকে কেবল অনিয়ম শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, বরং তা প্রতিরোধের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি নাবার্ডের সকল কর্মীকে এই অভিযান চলাকালীন পরিকল্পিত বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের এবং সততা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া, তিনি একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ভিজিল্যান্স কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী ব্যবস্থা ও পদ্ধতির গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করেন।
মূল বক্তব্য প্রদানের সময় শ্রী সুরেশ এন. প্যাটেল নৈতিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সততা জোরদার করা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনে সতর্কতামূলক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনার হিসেবে নিজের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রী প্যাটেল প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সতর্কতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তিন মাসব্যাপী এই অভিযান চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণীয় কার্যক্রমগুলোও তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি ব্যাংকিং জালিয়াতি, অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো এবং ‘নন-পারফর্মিং অ্যাসেট’ বা খেলাপি সম্পদের বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক সততা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন জোরদার করার লক্ষ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম-পদ্ধতি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং ঋণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ মানদণ্ড অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি আলোকপাত করেন।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক সুশাসনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে নাবার্ড (NABARD)-এর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সেমিনারটি সমাপ্ত হয়।
নাবার্ড (NABARD) কর্তৃক “সতর্কতা: সততা ও সুশাসন জোরদারকরণ” বিষয়ক সেমিনার আয়োজন

