কলকাতা, ৪ আগস্ট ২০২৬: রাজযোগ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মেডিকেল উইং এবং প্রজাপিতা ব্রহ্ম কুমারিস ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয় আজ কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে দেশব্যাপী “১০ কোটি মানুষের নেশামুক্ত থাকার শপথ গ্রহণ বিষয়ক মেগা ক্যাম্পেইন”-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে। এই ক্যাম্পেইনটি একটি দেশব্যাপী আন্দোলনের সূচনা করছে যা ৬ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এর লক্ষ্য হলো ভারতের ১০ কোটিরও বেশি নাগরিককে নেশামুক্ত, স্বাস্থ্যকর এবং মূল্যবোধ-ভিত্তিক জীবনধারা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা।
এই উদ্যোগটি চলমান ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ এবং ‘মিশন স্পন্দন’-এর আওতায় আয়োজিত হচ্ছে। এতে ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে ব্রহ্ম কুমারিস-এর স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর সহায়তা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনটি ব্রহ্ম কুমারিস-এর প্রাক্তন প্রধান প্রশাসনিক প্রধান রাজযোগিনী দাদি প্রকাশমণি জির পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে; তাঁর জীবন ছিল নিঃস্বার্থ সেবা, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং জাতি গঠনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন মাননীয় মন্ত্রী শ্রী দিলীপ ঘোষ (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন ইত্যাদি বিভাগের ক্যাবিনেট মন্ত্রী)। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষকে এগিয়ে আসার কথা বলেন।
উদ্বোধন উপলক্ষে মন্তব্য করতে গিয়ে মাননীয় মন্ত্রী শ্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
(পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী) বলেন, ‘ব্রহ্মকুমারীর এই উদ্যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়, বাংলা, বৃহত্তর কলকাতা এবং আন্দামান অঞ্চলের জন্য ব্রহ্ম কুমারিস-এর সাব-জোন ইন-চার্জ ব্রহ্ম কুমারী মধু দিদি কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনে সমবেত আড়াই হাজারেরও বেশি ব্রহ্ম কুমার ও ব্রহ্ম কুমারীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “তাঁরা নিজেদের জীবনের দৃষ্টান্তের মাধ্যমেই পথ দেখাচ্ছেন।” আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, রাজযোগ ধ্যানের নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তারা প্রত্যেকেই স্বাভাবিক ও অনায়াসেই এক বিশুদ্ধ, স্বাস্থ্যকর এবং আসক্তি-মুক্ত জীবনধারা গ্রহণ করেছেন।
মুক্ত ভারত’ (নেশা-মুক্ত ভারত) প্রতিজ্ঞা অভিযানের সমন্বয়ক ও রাজযোগ শিক্ষিকা ব্রহ্মকুমারী অস্মিতা বলেন, “অনেকেই আন্তরিকভাবে আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে চান, কিন্তু গভীর-মূল প্রোথিত অভ্যাস ও সংস্কারের বেড়াজালে আটকা পড়ে যান। রাজযোগ ধ্যান তাদের পরমাত্মার কাছ থেকে আধ্যাত্মিক শক্তি আহরণ করতে সক্ষম করে তোলে, যা তাদের জীবন-পরিবর্তনকে আরও সহজ, স্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী করে। অভ্যন্তরীণ সত্তা যত শক্তিশালী হয়, আসক্তি ততই দুর্বল হয়ে পড়ে; ফলে শেষ পর্যন্ত আসক্তি বা নির্ভরতা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।”
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মন্ত্রীদের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন উচ্চশিক্ষা, শিল্প এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী; নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী; আইন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী; পৌর বিষয়ক ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী; শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী; এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈব-প্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী।
সমবেতদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে আয়োজকরা মাদক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, একটি সুস্থ, ক্ষমতায়িত ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের জন্য আসক্তি-মুক্ত জীবনযাপন অপরিহার্য। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষা, যুবসমাজের অংশগ্রহণ, রাজযোগ ধ্যান, স্বাস্থ্যকর জীবনধারার প্রসার এবং সক্রিয় সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করা।
কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ছিল:
‘১০ কোটি মানুষের নেশা-মুক্ত প্রতিজ্ঞা’ শীর্ষক মেগা অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা
বিশিষ্ট মন্ত্রী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ
মানসিক প্রশান্তি, আবেগীয় সুস্থতা ও অভ্যন্তরীণ শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে রাজযোগ ধ্যানের অভিজ্ঞতা
মাদক অপব্যবহার প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক অধিবেশন
স্বাস্থ্যকর, মূল্যবোধ-ভিত্তিক ও আসক্তি-মুক্ত জীবনযাপনের প্রসার
ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব বিষয়ক বার্তা
জাতীয় নেশা-মুক্ত প্রতিজ্ঞা গ্রহণ পর্ব।
কলকাতায় ব্রহ্ম কুমারিস-এর “১০ কোটি মানুষের নেশামুক্ত থাকার শপথ গ্রহণ বিষয়ক মেগা ক্যাম্পেইন”-এর সূচনা

